আজ- শনিবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘায়ু পেতে হলে ডুবে থাকতে হবে কাজে!

পৃথিবীতে সবচেয়ে দীর্ঘায়ু হন জাপানের মানুষেরা, সে দেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু প্রায় ৮৪ বছর। শতায়ু মানুষের সংখ্যাটাও সম্ভবত সে দেশেই সবথেকে বেশি। ডা. সাইগেকি হিনোহারা, জাপানের সবচেয়ে বেশি বয়সী ডাক্তার, এইতো, মাত্র ক’মাস আগে, জুলাই মাসে মারা গেলেন। তিনি ছিলেন জাপানের চিকিৎসাবিজ্ঞানের একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তার দেখানো পথেই জাপান হয়েছে সবচেয়ে দীর্ঘ আয়ুর দেশ। ডা. সাইগেকি সারাজীবন কী করে আয়ু বাড়ানো যায়, সুস্থভাবে বেশিদিন বেঁচে থাকা যায় সে নিয়ে দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন। অন্য অনেকের মতো তিনি শুধু এ নিয়ে কথাই বলেননি, কি করে সুস্থভাবে অনেকবছর বেঁচে থাকা যায় তিনি নিজেই তাঁর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। অন্যদের যা বলেছেন, নিজেও সে নিয়মেই জীবন-যাপন করেছেন তিনি।
ডা. সাইগোকি হিনোহারা এ বছরের জুলাইয়ের ১৮ তারিখে ১০৫ বছর বয়সে টোকিওতে মারা যাবার আগ পর্যন্ত দিনে ১৮ ঘন্টা কাজ করতেন, নিয়মিত রোগী দেখতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, জীবনটা হলো মানুষ এবং সমাজের প্রয়োজনে অবদান রাখার জন্য। তাই তিনি সারাজীবন মানুষের কল্যাণে অবদান রেখেছেন। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি মানুষের উপকারে কাজে নেমে পরতেন। কাজই তাকে এত বছর সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রেখেছিল। তিনি সবসময় আজ, কাল এবং আগামী পাঁচ বছর কি করবেন তা ঠিক করে রাখতেন।
ডা. সাইগেকি হিনোহারা জাপানের টোকিওর সেন্ট. লিউক’স ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান এমিরেটাস এবং সেন্ট লিউক’স ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। মৃত্যুর পূর্বে, কীভাবে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভ করা যায় সে সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছিলেন “জাপান টাইমস্” এর একজন প্রতিনিধির সাথে। সে সাক্ষাৎকারে তিনি সকল মানুষের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, কখনওই কাজ থেকে অবসর না নিতে। যদি নিতান্তই বাধ্য হয়ে নিতেই হয় তবে ৬৫ বছর বয়স হবার পর অবসর নিতে পরামর্শ দেন তিনি।
সাক্ষাৎকারটিতে তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন জাপানে যখন প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৬৮ বছর ছিল, তখন সেখানে অবসরে যাওয়ার বয়স ছিল ৬৫ বছর। বর্তমানে জাপানে প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৮৪ বছরেরও বেশি, সুতরাং সেখানে অবসরে যাবার বয়স আরও বেশি হওয়া উচিত।
ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য আরো যে কাজগুলো করার পরামর্শ দেন ডা. সাইগেকি হিনোহারা সেগুলো হলো-
নিয়মিত খাওয়া এবং আরও একটু বেশি ঘুমানো নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে আনন্দে থাকুন
আমরা সবাই ছোটবেলায় খেলাধুলা আর মজার মধ্যে সময় কাটাতে গিয়ে অনেক সময় নিয়মিত খাওয়া আর ঘুমের কথা ভুলেই যেতাম। ডা. হিনোহারার মতে, প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার পরও আমরা চাইলে ছেলেবেলার সেই অভ্যাস ধরে রাখতে পারি। সবসময় রুটিনমাফিক খাওয়া আর ঘুম নিয়ে চিন্তা করার কোন দরকার নেই। বেশি নিয়মকানুন নিয়ে চিন্তা না করে ফুরফুরে মেজাজে থাকলে, সেটাই স্বাস্থ্য ভালোরাখার ব্যাপারে বেশি কাজে দিবে।
যদি বেশিদিন বাঁচতে চান, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ডা. হিনোহারার সকালের নাস্তায় থাকত, কফি, এক গ্লাস দুধ, এবং কমলালেবুর সরবত এবং এক টেবিল চামচ অলিভ ওয়েল। অলিভ অয়েল ধমনী বা শিরা ভালো রাখতে সহায়তা করে এবং ত্বক ভালো রাখে। খুব ব্যস্ত থাকতেন বলে দুপুরের খাবারে তিনি শুধু দুধ আর বিস্কিট জাতীয় খাবার খেতেন। রাতে সবজি, সামান্য পরিমান মাছ এবং ভাত। সপ্তাহে দু’বার তিনি ১০০গ্রাম চর্বিহীন মাংস খেতেন। এই ছিল তার খাওয়া দাওয়ার নিয়ম।
ওজন যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়ে যায়, সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনি যেমন খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতন থাকতেন এবং চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতেন, সবাইকেই তেমন করার পরামর্শ দেন তিনি। অতিরিক্ত ওজন, শরীরে বিভিন্ন রোগের কারণ হয়। তাই সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে হলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
ডাক্তাররা যা বলে সবসময় তা অন্ধভাবে বিশ্বাস না করাই ভালো
যখন কোন ডাক্তার আপনাকে কোন টেস্ট করতে বলবে বা কোন সার্জারি করার কথা বলবে, তখন আপনি তার কাছে জানতে চাইবেন, নিজের পরিবার বা বাচ্চাদের যদি এই অবস্থা হত তাহলে তিনি তাদের কি করতে বলতেন। অনেকেই বিশ্বাস করে, ডাক্তাররা বুঝি সব রোগ সারিয়ে তুলতে পারে। কিন্তু আসলে পারে না। তাহলে কেন অযথা অপ্রয়োজনীয় সার্জারি করে জীবনটাকে জটিল করে তুলতে হবে? – এমনটাই বলতেন ডা. হিনোহারা। বিশ্বাস করতেন, গান এবং ইমোশনাল থেরাপি মানুষের রোগ অনেকটা সারিয়ে তুলতে পারে।
ব্যথা ভুলে থাকতে মজা করুন
ব্যথা ব্যাপারটা রহস্যজনক। ব্যথা ভুলে থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় আনন্দের মধ্যে থাকা। উদাহরণস্বরূপ- যদি শিশুদের দাঁতের ব্যথা হয় এবং সে সময় তাদেরকে খেলাধুলায় আনন্দের মধ্যে ভুলিয়ে রাখা যায়, তবে তারা ব্যথা ভুলে যায় সহজেই। তাই মজা করতে থাকলে এবং আনন্দের মধ্যে থাকলে ভালো থাকা যায়। ডা. হিনোহারা যেখানে কাজ করতেন সেই সেন্ট লিউক’স হাসপাতালে গান, এনিম্যাল থেরাপি এবং আর্ট ক্লাসের ব্যবস্থা ছিল রোগীদের জন্য।
সবসময় সিঁড়ি ব্যবহার করুন এবং নিজের জিনিসপত্র নিজে বহন করুন
শরীরের পেশীগুলোকে সচল রাখার জন্য ডা. হিনোহারা সবসময় নিজের জিনিসপত্র নিজে বহন করার এবং সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করার পরামর্শ দিতেন। তিনি নিজেও এই পরামর্শ মেনে চলতেন।

elive

Read Previous

মাধ্যমিকে ঝরতে পারে ৬০ লাখ শিক্ষার্থী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *