আজ- বৃহস্পতিবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পাটকল রক্ষায় শ্রমিক আন্দোলনের বিকল্প নেই: বাদশা

পঁচিশটি বন্ধ পাটকল অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালু ও আধুনিকায়নের জন্য জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃত্বে বৃহত্তর শ্রমিক আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর তোপখানাস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কিংবদন্তী শ্রমিক নেতা আবুল বাশারের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানীদের মালিকানাধীন কলকারখানাগুলোকে জাতীয়করণ করে জনগণের মালিকানায় দিয়েছিলেন। সেটির লক্ষ্য ছিল- উৎপাদনের অংশিদারিত্বে জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রায়ত্বকরণের লক্ষ্য শুধু মুনাফা অর্জন নয়, এটির মূল লক্ষ্য ছিলো- জাতীয়করণকৃত কারখানার উৎপাদিত পণ্য দ্বারা জনগণের সমৃদ্ধি অর্জনে ব্যয় করা।

সম্প্রতি সরকার ২৫টি পাটকল বন্ধ করে হাজার-হাজার শ্রমিককে বেকার করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ব চিনিকলগুলোও ব্যক্তি মালিকানায় দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এসব অপচেষ্টা রুখে দিতে ও পাটকলগুলো আবারও রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালু করতে এদেশে বৃহত্তর শ্রমিক আন্দোলনের কোন বিকল্প দেখি না। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের মূলধারা ও সংবিধানের মুলনীতি থেকে সরে আসছে- যা আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের।

কিংবদন্তী শ্রমিক নেতা আবুল বাশারকে স্মরণ করে ওয়ার্কার্স পার্টির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ষাটের দশকের শ্রমিক আন্দোলনে যারা জড়িত ছিলেন তারা বাম চেতনার ধারক, তারাই ছিলেন মুলধারা। কমরেড আবুল বাশার সেই ধারার অগ্রপথিক। পাঁচটি সামরিক শাসন কঠিনতাকে শ্রমিক আন্দোলন ভেঙ্গে দিলেছিল- যার অগ্রভাগে ছিলেন কমরেড আবুল বাশার। মানুষকে সংগঠিত করার কাজই একজন কমিউনিস্টের প্রধান কাজ। কমরেড আবুল বাশার আমাদের সেই উদ্দিপনার নাম। সরকারের নীতির কারণে দেশে দুর্নীতি, লুটপাট ও ব্যক্তিমালিকানার সুনামি চলছে। এসবের বিরুদ্ধে আবুল বাশারের চেনতাকে ধারণ করে শ্রমিক আন্দোলনকেই রুখে দাঁড়াতে হবে।

স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- পাট-সুতা-বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারি সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও টিইউসি সভাপতি শহিদুল্লা চৌধুরী, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হক আমিন, সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব নোমানুজ্জামান আল আজাদ, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোস্তফা আলমগীর রতন, বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের নারী বিষয়ক সম্পাদক শাহানা ফেরদৌসী লাকী, ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগরে সাধারণ সম্পাদক কমরেড কিশোর রায় প্রমুখ।

elive

Read Previous

বিএনপির ভাষায় গণতন্ত্র কি হালুয়া-রুটি?

Read Next

৭ নভেম্বর ইতিহাসের কালো দিন: তথ্যমন্ত্রী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *